এই তুমি সেই রাফি না,  যে কিনা ৮ বছর আগে ধ-র্ষ*ণ করার চেষ্টায় জেলে গিয়েছিলে? 
পিছন থেকে এমন কথা শুনে বিবৃত হয়ে ঘুরে দেখি আমার সেই পাশের বাসার শফিক চাচা।  
তারপর একটু মুচকি হেসে,  উত্তর দিলাম,  হ্যা চাচা,  আমিই সেই রাফি। কেমন আছেন চাচা? 

শফিক চাচা : আমি কেমন আছি,  তা তোমার না জানলেও চলবে।   আগে বলো,  তোমার কি অবস্থা,  জেলের ভাত খেয়ে কি এই ৮ বছরে কিছু শিক্ষা হলো,  না আবার ঐ আগের মতোই আছো। 

শফিক চাচার এমন কথা শুনে থমকে গেলাম।  যেই শফিক চাচা আমায় এত ভালোবাসতো যে,  তার বাড়িতে যদি কখনো ভালো কিছু রান্না হতো,  তবে আমাকে না দিয়ে খেত না।  আর সেই শফিক  চাচা,  আজ আমাকে এমন কথা বলতে পারলো?? 

তারপর আমি মাথা নিচু করে আছি,  তারপর শফিক চাচা বলে উঠে,  

শফিক চাচা : কিনকিছু বলছো না যে,  নাকি জেলে থেকে কান দুটিতেও শুনতে পাও না। 

তারপর একটি দীর্ঘ  নিশ্বাস নিয়ে বললাম,  
রাফি : জী,  চাচা  ভালো আছি।  আপনি কেমন আছেন? 
শফিক চাচা : আমি তো ভালো আছি।  তা কবে জেল থেকে ছাড়া পেলে?  নাকি জেল থেকে পালিয়েছো। 

শফিক চাচার এমন কথা শুনে আমার যেন অনেক কান্না পাচ্ছে,  কিন্তু ধরে রেখেছি। এই সেই শফিক চাচা যে কিনা আমার বন্ধু কোনো অংশে কম ছিল না।  এমনকি মাঝে মাঝে আমার সাথে মাঠে গিয়ে খেলতো,  আমার একটু শরীর খারাপ হলে,  নিজের অফিস না গিয়ে হলেও আমার পাশে থাকতো,  সবসময় নিজের আপন ছেলের মতো ভালোবাসতো।  তিনি আমাদের এলাকার একজন  গন্যমান্য মানুষ ছিলেন আর তিনি আমায় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন যেটা বলার বাইরে।  আর তিনি এই ৮ বছরে এত তার পরিবর্তন,  এক মিথ্যা মামলায় কিনা আমায় পুরো পৃথিবীর কাছে বিশাল এক অপরাধী বানিয়ে দিল।  তারপর শফিক চাচাকে বললাম,  

রাফি : চাচি,  কেমন আছে,  চাচির শরীর ভালো আছে তো?? 
শফিক : হ্যা,  ভালো আছে,  তা বললে না তো,  কবে জেল থেকে এসেছো? 
রাফি : কাল দুপুরে ছাড়া পেয়েছি। 
শফিক : ও তা ভালো।  এখন অন্তত ভালো হয়ে যাও,  নাকি আবারও ওসব করবে? 
রাফি : নিশ্চুপ....... 
শফিক : কি,  কিছু বলছো না যে? 
রাফি : হুম,  ইভা (শফিক চাচার মেয়ে) ভালো আছে তো? 

এই কথা বলার পর শফিক চাচা যেই কথা বললো তা শুনে আমি ভীষণ অবাক হয়ে যাই। তিনি বললেন, 

ঘুরে আসুন আমাদের পেইজ থেকে facebook.com/profile.php?id=61577646275569

শফিক : কেন,  একবার নিজের মামাতো বোনের সাথে হয়ে হয়নি,  এবার আমার মেয়ের দিকে কুনজর দিয়েছো? 

আমি শুধু অবাক হয়ে থাকলাম, যেই শফিক চাচার মেয়েকে আমি নিজের বোনের চোখে দেখি,  আজ কিনা শফিক চাচা এমন কথা বলতে পারলো।  আমি শুধু নীরবে সব শুনলাম আর নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না,  চোখ থেকে ২ ফোঁটা পানি বের হয়ে আসলো.।

তারপর শফিক চাচা বলে উঠলো,  
শফিক : তোমাকে আমি এত ভালোবাসতাম,  এতো তোমাকে ভালো জানতাম,  আর তুমি এই প্রতিদান দিলে? 

তখন আমি কান্নার স্বরে  বললাম,  
রাফি : চাচা,  বিশ্বাস করেন,  আমি,  এসব কিছুই করেনি।  আমাকে ফাসানো হয়েছে। 

শফিক : ব্যাস,  অনেক হয়েছে।  তুমি কিছু না করলে তো তোমাকে ফাঁসিয়ে অনেক বড় কাজ হয়ে যাবে। তোমার এসব কথা আর আমি শুনতে চাই না। 

তারপর আমি নিজের মতো করে চুপ করে থাকি।  তারপর আবার শফিক চাচা বলে উঠে,  

শফিক : তা কোথায় থাকবে শুনি?  তোমার বাবা-মা তো আর তোমায় তাদের সাথে থাকতে দিবে না,  যা কাজ তুমি করেছো,  তার জন্য তো তারা তাদের মুখই কাউকে দেখাতে পারে না।  

রাফি : দেখি চাচা,  আল্লাহ কোথায় থাকার ব্যবস্থা করে? 
শফিক : হুম,   তাই দেখো।  আর ভালো হয়ে যাও। 

বলেই শফিক চাচা আমার সামন থেকে চলে গেল। 
তারপর আমি হাঁটা  শুরু করলাম,  আমার বাড়ির দিকে, । 
সবকিছু যেন পাল্টে গেছে,  আগের মতো সেই আর গাছপালা নেই।  আমাদের সেই খেলার বিশাল মাঠটাও নেই,  তার জায়গায় আছে শুধু বিশাল এক ১০ তলা বিল্ডিং। রাস্তাঘাট সব যেন আমার কাছে নতুন,  অথচ একসময় এই এলাকার সবকিছুই আমার কাছে কিছুই ছিল না,  সব জায়গায় আমার চলাচল। 

তার ৩০ মিনিট পর  অনেক কষ্টে খুঁজে বের করলাম,  আমার সেই বাড়ি।  তবে আমার দেখা,  আর সেই ৬ বছর আগের বাড়ি নয়।  এক নতুন রকমের বাড়ি।  আমি থাকার সময় যেই বাড়ি ছিল ২তলা,  সেই বাড়ি এখন ৫তলা।  আর বাড়ির গেটও যেন বেশ বড় হয়েছে।  সাথে বাড়িতে রাখা হয়েছে এক দারোয়ান। 

তারপর বাড়ির গেটের সামনে নিজের একটি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে বাবাকে ডাকতে থাকলাম। 

রাফি : বাবা,  ও বাবা।  শুনছো,  আমি এসেছি। 
তার সাথে সাথে দারোয়ান এসে আমাকে ধমক দিয়ে বললো,  
দারোয়ান : এই ব্যাটা,  এখানে এভাবে চিৎকার করছিস কেন,  যা বলছি। 

তখন অনেক খারাপ লাগলো,  কারণ আমি আর সেই আগের রাফি নেই। মাথা ভর্তি চুল আর মুখ ভর্তি দাড়ি।  আমাকে চিনাটা অনেক কষ্টের,  তবুও যে কিভাবে শফিক চাচা আমাকে চিনলো,  তা আমার বুঝার বাইরে। হয়তো আমায় অনেক বেশি ভালোবাসার জন্য আজ ৮ বছর পরও আমাকে চিনেছে।  তবে সে আমার সেই ৮ বছর আগের কথার মতে আজও আমায় বিশ্বাস করেনি। কেন যে তা আজও জানি না।  সেদিন পুলিশ আমায় টানতে টানতে জেলে নিয়ে যাচ্ছিল,  তবুও শফিক চাচা তা দেখছিল,  আমি শুধু পাগলের মতো বলতেছিলাম,  আমি কিছু করিনি,  আমি কিছু জানি না।  কিন্তু কেউ সেদিন আমার কোনো কথাই শুনেনি। 

তারপর দারোয়ানকে বললাম যে,  এই বাড়ির মালিককে কি একটু ডেকে দিবেন।  
দারোয়ান : কেন?  আপনি কে?  আর এ অসময় স্যারকে ডাকলে স্যার ভীষণ রাগ করবে।  আপনি বরং পরে আসেন। 

রাফি : না,  ভাই একটু কষ্ট করে গিয়ে বলেন না। 
দারোয়ান : আরে,  আজব লোক তো,  বলছি না,  এখন ডাকতে পারবো না,  আর আপনি স্যারের কি হন? 
 
তারপর আমি এক দীর্ঘ নিঃশাস নিয়ে বললাম,  " আমি তার ছেলে হই "।
দারোয়ান : এই মিয়া,  আপনি মশকোরা করার আর জায়গা পাননি?  স্যারের একমাত্র ছেলে রিদয় ১মাস আগে তার বউ- বাচ্চা নিয়ে আমেরিকায় গেল,  আর আপনি বলেন যে,  আপনি তার ছেলে। 

রিদয় নামটা শুনে বুঝতে দেরি হলো না যে,  এটা আমার আপন বড় ভাই।  তবুও তার একমাএ সন্তান মানে বুঝলাম না,  তাই আবার দারোয়ানকে বললাম,  

রাফি : ভাই,  এটা আহসান কবীরের বাড়ি না? 
দারোয়ান : হ্যা,  এটা তো কবীর স্যারেরই বাড়ি,  কেন কি হইছে? 
রাফি : তবে যে বলেন,  তার একমাএ সন্তান।  
দারোয়ান : হ্যা,  তার তো একমাত্র সন্তানই,  আর সে হলো রিদয়।  তার নামেই তো কবীর স্যার সব সম্পত্তি লিখে দিয়েছে। 

তারপর একটু থকমে গিয়ে বললাম,  
রাফি : তা,  তোমার কবীর স্যারের আর কোনো কি সন্তান নেই? 
দারোয়ান : আর কোথা থেকে আসবে শুনি?  তবে শুনেছি তার আরেকটি ছেলে ছিল যে কিনা ৮ বছর আগে মারা গেছে। 

এ কথা শুনে আমার কলিজাটা যেন ছিড়ে গেল,  নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।  

তারপর............... 

চলবে ............ 

কে তোর আমার চেয়ে আপন
পর্ব : ১
লেখিকা : সুমি আক্তার
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org
How To Get It For Free?

If you want to get this Premium Blogger Template for free, simply click on below links. All our resources are free for skill development, we don't sell anything. Thanks in advance for being with us.