আমার_নিষ্ঠুর_ভালবাসা পর্ব_12


 

আমার_নিষ্ঠুর_ভালবাসা 

পর্ব_12
লেখিকা_সুমি আক্তার

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ🚫

ঠিক সকাল আটটার সময় শাহরিয়ার ম্যানশনের সকল সদস্য এসে হাজির হলো ডাইনিং টেবিলে। এটাই এখানকার নিয়ম। সকালের ব্রেকফাস্ট আর রাতের ডিনার ঠিক সময়ে সবাইকে একসাথে করতে হবে। এই নিয়ম আরমানের দাদু বেঁচে থাকতে করে গিয়েছিলেন। সেই নিয়ম এখনো বজায় আছে।

মিসেস সাবিনা বেগম টেবিলে লুচি আর তরকারি দেখে নাক মুখ সিঁটিকে বললেন, “কি সব রান্না হয়েছে এগুলো? অয়েলি ফুড? জানো না এসব আমি খাই না।”

আনজুমা বেগম:- “এগুলো আমাদের জন্য ভাবী। তোমাদের জন্য তোমাদের মতো রান্না করা হয়েছে। আনছে ওরা।”

এরপর দুই জন সার্ভেন্ট আরমান এবং সাবিনা বেগমের জন্য ওরা যা খাই তাই এনে দিলো। এদিকে সামিরা তো লুচি তরকারি দেখে অনেক খুশি।

সামিরা:- “ওয়াও ছোটো আম্মু, কি বানিয়েছো। অনেক অনেক থ্যাংকস তোমায়, অনেক দিন হলো লুচি তরকারি খাইনি।”

আনজুমা বেগম মুচকি হেসে বললেন, “আমি বানাইনি এগুলো মায়া বানিয়েছে।”

মানোয়ার সাহেব‌‌‌ মজা করে বলে উঠলেন, “তাই তো ভাবি আজ সূর্য কোনোদিকে উঠলো যে আমার গিন্নি এতো সুন্দর খাবার বানিয়েছে। এখন দেখছি সূর্য যেদিকে উঠার সেদিকেই উঠেছে।”

আনজুমা বেগম মৃদু রাগ দেখিয়ে বললেন, “হ্যাঁ এমন ভাব করছো যেনো মনে হচ্ছে আমি কোনোদিনও রান্না করে খাওয়াই না।”

আনোয়ার সাহেব:- “আহ ছোটো বৌমা এসব কথা বাদ দাও তো, আগে খেতে দাও। খাবার দেখেই জিভে পানি আসছে। আর অপেক্ষা করতে পারছি না।”

সাবিনা বেগম মুখ বাঁকিয়ে বললেন, “এমন সব ভাব করছে যেনো মনে হচ্ছে ওই মেয়ে খাবার বানায়নি অমৃত বানিয়েছে। হুহ।”😏

আরমান খাবার টা মায়া বানিয়েছে শুনে আরচোখে তাকালো লুচি গুলোর দিকে। এখনো অনেক টা ফুলে আছে। দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে। মনে হচ্ছে ভীষণ টেস্টি হয়েছে খেতে। ওরও ভীষণ ইচ্ছে যাচ্ছে খেতে, কিন্তু নিজের ইগোর জন্য খেতে পারছে না। 

আর এদিকে আবিরও এসে আরমানকে জ্বালানোর জন্য মায়ার রান্নার অনেক প্রশংসা করছে, আর মজা করে খাচ্ছে। আর আবিরের সাথে যোগ দিয়েছে সামিরাও।

কিছুক্ষণ পর সামিরা একটা লুচি তুলে আরমানের প্লেটে দিলো। দিয়ে বলল, “ভাইয়া প্লীজ একটা খাও। দেখো না অনেক টেস্টি হয়েছে।”

সাবিনা:- “সামিরা! একে তো তুমি এসব অয়েলি খাবার খেয়ে নিজের শরীরটা নষ্ট করছো তার উপর আবার আমার বাবুর পেছনেও লেগেছো?”

সামিরা:- “তোমাকে তো আর খেতে জোর করিনি মম। এটা আমার আর ভাইয়ার ব্যাপার। তাই তুমি তোমার মতো খাও।”

সাবিনা বেগম ধমকে বলে উঠলেন, “সামিরা!! তুমি মনে হচ্ছে ভুলে যাচ্ছো বড়োদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়। একদম আমার মুখে মুখে কথা বলবে না। এটা আমার পছন্দ না।”

আনোয়ার সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে ইশারা দিলেন চুপ থাকতে। আরমান ওর মায়ের উদ্দেশ্য বলল, “মম একদম আমার ছুটকিকে বকবে না। ও আমার একমাত্র বোন। আর একটা লুচিই তো খেতে বলেছে এ আর এমন কি। আমি আমার বোনের এতটুকু আবদার রাখতে পারবো না।”

আবির নিজের মনে বিড়বিড় করে বলল, “শালা, হারামী, নিজের খেতে ইচ্ছে করছে সেটা তো বলতে পারছে না ও নাকি আবার বোনের আবদার রাখতে খাবে।”

সাবিনা বেগম আরমানের উদ্দেশ্যে বলল, “হ্যাঁ। তোমার আদরেই তো দিন দিন বাঁদর হচ্ছে। পুরো বাঁদর একটা।”

সামিরা এটা শুনে ঝটপট বলে উঠলো, “আচ্ছা আমি যদি বান্দর হয় তাহলে পাপা তুমিও তো বান্দর হবে। যেহেতু আমি তোমার মেয়ে। তাহলে ছোটো আব্বুও বান্দর হবে যেহেতু তোমারা ভাই ভাই। আর মমও তাহলে বান্দর যেহেতু আমার গর্ভধারিণী মা। আর তার সাথে ভাইয়াও বান্দর। হি হি হি।” 😁😁

সামিরার এমন কথা শুনে আবির হু হা করে হেসে দিলো। আর আনজুমা বেগমও মুখ চেপে হাসলেন। আর এদিকে আনোয়ার সাহেবের মুখের খাবার নাকে উঠে বিষম খেয়ে যাচ্ছে তাই অবস্থা। মানোয়ার সাহেব পাশে বসায় উনি তাড়াতাড়ি বড়ো ভাইকে পানি দিলেন। এদিকে আরমান মুখ টিপে হাসছে ওর দুষ্টু বোনের কথা শুনে।

আরমান মিথ্যা রাগ দেখিয়ে সামিরাকে উদ্দেশ্য করে বলল, “সামিরা!! তুমি কিন্তু ভীষণ দুষ্টু হয়েছো। এতো দুষ্টুমি ভালো না।”

এদিকে সাবিনা বেগম ভীষণ বিরক্ত হলেন। নিজের কথায় নিজেই ফেঁসে গেলেন যেনো। উনার খাওয়া শেষ তাই উনি বিরক্তকর মুখ নিয়ে উঠে গেলেন। 

আনোয়ার সাহেব আনজুমা বেগমকে খেতে খেতেই জিজ্ঞাসা করলেন, “ছোটো বৌমা! মায়া মাকে দেখছি না তো, কোথায় মেয়েটা?”

আনজুমা বেগম, “হ্যাঁ ভাইয়া আমিও অনেকক্ষণ থেকে দেখছি না। ও বলছিল অফিস যাওয়ার আগে একবার হসপিটাল যাবে ওর বাবাকে দেখতে। তাই হয়তো বেরিয়ে গেছে মেয়েটা।”

আবির হতাশ হওয়ার ভান করে বলল, “যাহ চলে গেলো! কোথায় ভাবলাম একসাথে যাবো দুইজন।”

সামিরা:- “কিন্তু আবির ভাইয়া তুমি তো বড়ো ভাইয়ার সাথে যাও রোজ।”

আবির দাঁত দেখিয়ে বলতে লাগলো, “হ্যাঁ তোর বান্দর ভাইয়ের সাথেই যেতাম আগে, তবে এখন থেকে ঠিক করেছি আমি আর মায়া একসাথে যাবো, আমার গাড়িতে করে।”

আরমান বিরক্ত গলায় বলে উঠলো, “খাওয়ার সময় এতো কথা বলা ঠিক না। এতো বকবক করিস কেন দুজন? চুপচাপ খা।”

ওরা আর কোনো কথা না বলে দুইজনই আরমানক উদ্দেশ্য করে মুখ বেঁকিয়ে খাওয়াই মন দিলো। আরমানের খাওয়া শেষ হতেই ও ওঠে গেলো চেয়ার ছেড়ে। লুচি তরকারি টা সত্যিই খুব সুন্দর হয়েছিল। সত্যিই মেয়েটার রান্নার হাত ভালো। খুব সুন্দর রান্না করে মেয়েটা। এই সব ভাবতে ভাবতেই ও ওর রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। ওর রুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই হঠাৎ কারোর সাথে ধাক্কা খেলো। 

আর এই ধাক্কা খাওয়ার মানুষটা আর কেউ নয় আমাদের মায়া। সবাই যে যার মতো ব্রেকফাস্ট করতে যেতেই মায়া উপড়ে এসেছিল আরমানের রুম পরিস্কার করতে। ও ওর কাজ শেষ করে এগিয়ে যাচ্ছিল দরজার দিকেই। ও নিচের দিকে তাকিয়েছিল, আর তার কারণ ওর হাতে ছিল ময়লা পানির বালতি। মেঝে পরিষ্কার করছিল ও পানি দিয়ে। সেই ভারী বালতি তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় খেয়াল করেনি সামনের দিকে থেকে আসা আরমানকে। তাই দুজনেই খেলো ধাক্কা। সাথে সাথে মায়ার হাতে থাকা বালতি সহ মায়া ধপাস করে নীচে পড়ে গেলো। সমস্ত ময়লা পানি আবারো মেঝেতে পড়ে গেলো, সাথে কিছুটা মায়ার গায়েও লাগলো।

এদিকে তো আরমান হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। কি হলো বিষয়টা ও বুঝতে পারলো না। অবাক হয়ে নীচে পড়ে থাকা মায়ার দিকে তাকালো। 

মায়া নিজের কোমড়ে হাত দিয়ে পড়ে থেকেই আর্তনাদ করে উঠলো, “ওহ মা গো! আমার কোমড়টা বুঝি গেলো। ওহ আল্লাহ!!”

মায়ার আর্তনাদে আরমানের ধ্যান ফিরলো যেনো। ও তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে গেলো মায়াকে উঠানোর জন্য। কিন্তু ময়লা পানিতে তাড়াহুড়োই পা দেওয়ার কারণে ও নিজেও স্লিপ করে পড়লো মায়ার উপর। মায়া নীচে আর ও মায়ার উপরে।

ঠিক তখনি ওদের কানে আবিরের গলার আওয়াজ এলো, “আমি কিছু দেখি নি, আমি কিছু দেখিনি।”

আরমান পুরোপুরি মায়ার উপরে পড়েছিল। মায়া আবিরের গলার আওয়াজ পেতেই আরমানকে দিলো এক ধাক্কা আর আরমান গড়িয়ে মায়ার পাশে গিয়ে পড়লো। মায়া কোনো মতে উঠে বসলো। আর আবির তখনো মুখ দুই হাতে ঢাকা দিয়ে আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে আছে। আরমান রেগে গিয়ে বলল, “নাটক কম কর আবির। তোর এই নাটক আমার একদম পছন্দ না।”

বলতে বলতেই আরমান উঠে বসলো মেঝেতেই। মায়া তখনো কোমড়ে হাত দিয়ে মেঝেতেই বসে আছে। আবির আরমানের কথায় মুখ থেকে হাত সরিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে দাঁড়ালো। আরমান বিরক্তিকর গলায় মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলল, “আমার রুমে কি করছিলে তুমি। আর চোখে দেখতে পাও না, যে এইভাবে দিনের বেলায় এভাবে ধাক্কা খেলে।”

আবির তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো, “এইভাবে দিনের বেলায় তোমার ধাক্কা খাওয়া একদম উচিত হয়নি মায়া। তোমার উচিত ছিল রাতের বেলায় ধাক্কা খাওয়া।”

আরমান রেগে কটমট করে তাকালো আবিরের দিকে। আর আবির আবারও সিরিয়াস হওয়ার ভান ধরে, মুখে আঙ্গুল দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

এদিকে মায়াও আরমানকে তেজ দেখিয়ে বলল, “আমি তো আপনার রুম পরিস্কার করতে এসেছিলাম। আর ধাক্কা আপনি দিয়েছেন আমি না। আর আপনি নিজেই এই পানিতে স্লিপ কেটে পড়েছেন, তাই একদম আমার দোষ দিবেন না।”

আরমান মায়ার প্রতিউত্তরে কিছু বলল না। শুধু প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালো। আর আবির এগিয়ে এসে মায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। মায়া আবিরের হাত ধরে উঠে দাঁড়াতেই মায়া এক হাত কোমড়ে দিয়ে “আহ” শব্দ করে উঠলো। আর এক হাত দিয়ে আবিরের হাতের বাহু খামচে ধরলো। 

আবির মায়াকে এমন করতে দেখে উত্তেজিত হয়ে বলল, “কি হয়েছে মায়া? কোথায় ব্যাথা পেয়েছো?”

মায়া:- “ওহ কিছু না ভাইয়া। ঠিক আছি আমি। শুধু কোমড়ে হালকা ব্যাথা পেয়েছি মনে হয়। এখনি ঠিক হয়ে যাবে।”

আবির:- “ঠিক হয়ে যাবে মানে? আপনা আপনি কিভাবে ঠিক হবে? চলো তোমায় নিয়ে হসপিটালে যাই।”

এদিকে আরমান অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওদের দুজনের দিকে। কেন জানি ওদের এইভাবে একসাথে দেখে একদম সহ্য হচ্ছে না। ইচ্ছে করছে দুজনকে ধাক্কা দিয়ে দুইদিকে সরিয়ে দিতে।

মায়া আবিরের হাত ছেড়ে দেওয়াল ধরে দাঁড়ালো।
তারপর বলল, “সরি। আমি কিছুক্ষন পর এসে রুমটা পরিস্কার করে দিচ্ছি।”

আবির:- “তুমি রেস্ট নাও। আমি গিয়ে রুবিকে ডেকে দিচ্ছি, ও পরিস্কার করে দেবে।”

এরপর মায়া আস্তে আস্তে কোনো রকমে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। আবির ও মায়ার পিছু নিলো। আর আরমান রাগে বিরক্তিতে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা দিলো। শরীরে ময়লা পানি লেগেছে ওকে আবারো গোসল করতে হবে। 

এদিকে মায়া নিজের রুমে গিয়ে ও নিজেও গেলো গোসল করতে। কারণ ওর গায়েও ময়লা পানি লেগেছে। মায়া গোসল সেরে ওয়াশরুম থেকে বেরোতেই দেখতে পেলো ছোটো আম্মু হাতে একটা অয়েন্টমেন্ট নিয়ে খাটে বসে আছে। উনি দরজা খোলার আওয়াজে মায়ার দিকে তাকালো। মায়াকে ওয়াশরুম থেকে বেরোতে দেখে উনি তাড়াতাড়ি উঠে গেলেন মায়ার কাছে। তারপর মায়ার গায়ে হাত দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কোথায় লেগেছে মামনি? আবির বলল পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছো তুমি?”

মায়া:- “আরে ছোট আম্মু তুমি এতো ব্যাস্ত হয়ো না তো। আমি ঠিক আছি। শুধু কোমড়ে হালকা ব্যাথা পেয়েছি।”

আনজুমা বেগম:- “আচ্ছা আসো, আমি অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে দিই। একটু রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবে।”

মায়া এগিয়ে গিয়ে খাটে বসলে আনজুমা বেগম যত্ন সহকারে অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে দিতে দিতেই বলল, “আমি তো ভাবছিলাম তুমি বেরিয়ে গেছো। তোমার বাবাকে হসপিটালে দেখতে যাবে বলছিলে, আর তুমি পড়লে কিভাবে মা?”

মায়া:- “আমি উনার ঘরটা পরিস্কার করতে গিয়েছিলাম ছোটো আম্মু। পানিতে স্লিপ কেটেই পড়ে গেছি।”

মায়া একটু মিথ্যায় বলল, কারণ ধাক্কা লাগার কথাটা বলতে ওর কেমন যেনো লাগছে। এরপর অয়েন্টমেন্ট লাগানো হয়ে গেলে উনি বললেন, “আচ্ছা তুমি বসো আমি এখনি আসছি।”

বলেই উনি চলে গেলেন। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এলেন হাতে একটা খাবারের থালা নিয়ে। তারপর উনি মায়ার কাছে বসতে বসতে বলল, “কই দেখি হাঁ করো তো।”

মায়া অবাক হয়ে বলল, “আরে ছোটো আম্মু কি করছো?”

আনজুমা বেগম মায়ার মুখের সামনে খাবার ধরে বললেন, “একদম কোনো কথা না। আমি খাইয়ে দিচ্ছি চুপচাপ খাও। সেই সকাল থেকে কাজ করছো তুমি।”

এরপর মায়া হাঁ করলে উনি মায়াকে খাইয়ে দিতে লাগলেন। এতোটা আদর যত্ন দেখে মায়ার চোখ থেকে দুই ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। 

আনজুমা বেগম:- “কি হলো মামনি? কাঁদছো কেন? ব্যাথা করছে খুব?”

মায়া দুইদিকে মাথা নাড়িয়ে বলল, “এই ভাবে পাপা ছাড়া কেউ কখনো খাইয়ে দেয়নি তো তাই পাপার কথা মনে পড়ছে খুব। আচ্ছা ছোটো আম্মু পাপা না থাকলে আমি কিভাবে থাকবো বলো তো?”

মায়ার কথা শুনে আনজুমা বেগমের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো যেনো। সত্যিই তো মেয়েটার বাবা যদি না থাকে তাহলে কোথায় যাবে মেয়েটা? 

আনজুমা বেগম মায়ার চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বললেন, “কাঁদে না মা, সব ঠিক হয়ে যাবে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।”

এরপর উনি মায়াকে আরো অনেক কিছু বলে শান্তনা দিয়ে খাবার টা খাইয়ে দিলো। 

_.._.._.._.._.._.._.._.._.._.._.._.._..

আবির মায়ার রুমে এসে মায়াকে পেলো না। মায়ার রুম থেকে যাওয়ার সময় সামনে রুবিকে দেখতো পেলো তাই ওকে জিজ্ঞাসা করলো, “রুবি, মায়াকে দেখেছো?”

রুবি:- “মায়া তো এই মাত্র বেরিয়ে গেলো অফিসের জন্য।”

আবির:- “এই মেয়েটাও না, কোমড়ে ব্যাথা নিয়ে কি দরকার ছিল আজ অফিসে যাওয়ার। কাল জয়েন হলেই তো পারতো।”

আবির নিজের মনে কথা গুলো বলে ছুট লাগলো বাইরের দিকে। মায়াকে যদি পাই সেই আশায়। আর পেয়েও গেলো। মায়া এখনো এই বাড়ির গেট পেরোয়নি। আবির একেবারে রেডি হয়ে নেমেছিল অফিসে যাওয়ার জন্য। ভাবলো মায়ার যদি খুব বেশি ব্যাথা লাগে তাহলে মায়াকে নিয়ে আগে হসপিটালে যাবে। কিন্তু এই মেয়ে তো অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। 

আবির আরো জোড়ে ছুটে গিয়ে মায়ার সামনে দাঁড়ালো। মায়া এইভাবে কাউকে ছুটে এসে ওর সামনে দাঁড়াতে দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে চমকে উঠলো। তারপর আবিরকে দেখে সস্তির শ্বাস ছাড়লো। আর আবির সে তো হাঁটুতে হাতের ভর দিয়ে হাঁপাতে ব্যাস্ত। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলল, “কিচ্ছু বলার নেই তোমায়। চুপচাপ এখানে দাঁড়াবে, আমি গাড়ি নিয়ে আসছি।”

বলেই আবির এগিয়ে গেলো গ্যারেজ এর দিকে গাড়ি আনতে আর মায়া বাধ্য মেয়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকলো ওই জায়গাতেই। 

এরপর আবির গাড়ি নিয়ে আসলে, সামনের দরজা খুলে দিলো। মায়াও চুপচাপ উঠে বসলো। তারপর ওরা গাড়ি নিয়ে রওয়ানা দিলো নিজেদের গন্তব্যে। আর এই পুরো দৃশ্যটা টা একজন তার রুমের বেলকনি থেকে জলন্ত চোখে দেখছিল। তার হাতের মুঠো শক্ত করে ধরে আছে বারান্দার রেলিং। 

চলবে….

(রিচেক দেওয়া হয়নি তাই প্লিজ কোথাও ভুল দেখলে জানাবেন)

✨গল্পের জগতে আমি সম্পূর্ণ নতুন তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন…. আর গল্পটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে কমেন্টে জানাবেন……♥️ 

🔴 পরবর্তী  পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজটিকে ফলো করুন ।

(গল্পটি কল্পনা দিয়ে লেখা তাই বাস্তবের সাথে মেলাবেন না।)
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org
How To Get It For Free?

If you want to get this Premium Blogger Template for free, simply click on below links. All our resources are free for skill development, we don't sell anything. Thanks in advance for being with us.