রাত_গভীর ২
#রাত_গভীর
#পর্ব_২
✍️Sumi Akhtar
রাবেয়া মেয়ের খাটের নিচে লুকিয়ে আছে। এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা বন্ধ করছে না সে। গা ছমছমে পরিবেশ, নিস্তব্ধ চারপাশ, শুধু ঘড়ির টিকটিক শব্দ—আর মাঝে মাঝে রিনির নিঃশ্বাসের শব্দ।
হঠাৎ করে ঘরের বাতিটা নিভে যায়। হয়তো রিনি নিজের হাতে নিভিয়েছে, নাকি টাইমারে। তারপর শুরু হয় সেই চেনা শব্দগুলো—যা রাবেয়াকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল।
—"উফ্… আর না প্লিজ… থামাও… খুব লাগছে!"
—"না, না… আর একটু… আহ্!"
রাবেয়া আতকে উঠে। তার চোখ ছানাবড়া। সে এতটাই ভয় পেয়ে গেছে যে খাটের নিচেই নিঃশব্দে কাঁপতে থাকে। মেয়ে কী করছে? সত্যিই কেউ আছে ঘরে?
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কারও পায়ের আওয়াজ নেই। দরজাও তো বন্ধই ছিলো। তবে? এই শব্দ আসে কোথা থেকে?
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ আরেকটা শব্দ হয়—একটা ধাতব কিছুর গোঁ গোঁ শব্দ… যেনো একটা যন্ত্র চলছে।
রাবেয়া আর থাকতে না পেরে একটু মাথা বের করে দেখে—আর তখনই তার চোখ কোটরাগত!
রিনি শুয়ে আছে, চোখ বন্ধ, গায়ে মোটা কম্বল। হাতে ধরা এক ধরনের রিমোট—আর বিছানার পাশে একটা ছোট বাক্সের মতো কিছু জ্বলজ্বল করছে!
রাবেয়া বুঝে উঠতে পারছে না ওটা কী। হঠাৎ করে রিনি মুখে কিছু বললো—"ওকে গুগল, ভিব্রেশন স্টার্ট করো, লেভেল ফোর!"
চোখ কপালে ওঠে রাবেয়ার!
তার গলা শুকিয়ে আসে। এখন সে পুরো দৃশ্য বুঝতে পারছে। মেয়েটা কোনো ছেলের সাথে নয়… নিজেই নিজের সাথে!
তারপরই আবার শুরু হলো সেই অদ্ভুত শব্দগুলো… রাবেয়া হতবাক! এইরকম যন্ত্র! এইরকম আচরণ! তার মেয়ে এসব করছে!
রাবেয়া চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে খাটের নিচে। এখন আর কিছু দেখা বা শোনা তার সহ্য হচ্ছে না।
ঘন্টাখানেক পর সব শান্ত হয়। রিনি ঘুমিয়ে পড়ে। রাবেয়া নিঃশব্দে বের হয়ে আসে রুম থেকে।
তার চোখে পানি।
সে জানে, এখন সময় এসেছে মেয়ের সাথে খোলাখুলি কথা বলার। কিন্তু কিভাবে বলবে এই কথা? নিজের সন্তানকে এই পথে যেতে দিয়েছে কে?
চোখের সামনে যে চেহারাটা বারবার ভেসে উঠছে, সেটি নিজের না, রিনির।
চলবে…
ফলো করে রাখুন 👉 Sumi Akhtar পেইজটি
পেজ লিংক : https://www.facebook.com/share/1AvDtCUmKD/
পরবর্তী পর্ব মিস না করতে ❤️
#রাত_গভীর
#Sumi_Akhtar_Story
#পর্ব_২
#Bangla_Emotional_Drama
