গল্প: "ফিরে আয় তুই আমার মনপাড়ায়" দ্বিতীয় পর্ব
গল্প: "ফিরে আয় তুই আমার মনপাড়ায়"
দ্বিতীয় পর্ব
লেখিকা: রামিসা লুবনা রাত্রি
মোমবাতির আলো ধীরে ধীরে নিভে আসছে...
পিহূ এখনো অজ্ঞান, চোখদুটি বন্ধ। বিছানায় শুয়ে থাকা এই নিষ্পাপ মুখটা দেখে হঠাৎই মাহিরের হৃদয় যেন মোচড় দিয়ে উঠল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ভেতরকার পশুটার জায়গায় জেগে উঠল এক অপরাধবোধ।
সে আস্তে করে পিহূর কপালের ক্ষতটা পরিষ্কার করতে লাগল। মৃদু গলায় বলল,
"পিহূ… আমি জানি তুমি আমাকে ঘৃণা করো, আমার স্পর্শও হয়তো তোমার কাছে বিষের মতো। কিন্তু আমি... আমি তোমাকে কখনো কষ্ট দিতে চাইনি।"
মাহিরের গলা ভারী হয়ে আসে। অনেক কিছু বলার ছিল তার, কিন্তু সময় বুঝি তা দেয়নি।
---
একটু পরেই পিহূর চোখ ধীরে ধীরে খুলে যায়। চোখ মেলে প্রথমে সে দেখে চারপাশ, তারপর মাহিরের মুখ।
ভয়ে এক ঝটকায় উঠে বসে।
"তুমি... তুমি আবার আমার কাছে এসেছো কেন?" – কণ্ঠে এক রাশ আতঙ্ক।
মাহির হাত তুলে থামতে চায়,
"না না, আমি কিছু করিনি... শুধু তোমার কপাল থেকে রক্ত পরিষ্কার করেছি, আর..."
পিহূ তীব্র কণ্ঠে বলল,
"তুমি কি বুঝতে পারো না? আমার ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিলে সেটা ভালোবাসা হয় না! আমি এখনো রাকেশকে ভালোবাসি, আর সেটা কোনো রাত বা সম্পর্ক বদলাতে পারবে না!"
মাহিরের মুখ থমকে গেল। কিন্তু চোখে ছিল না কোনো রাগ—বরং একধরনের স্বীকৃতির ছাপ।
"ভালোবাসো করো, আমি তো বলিনি আমাকে ভালোবাসো... আমি শুধু চেয়েছিলাম, এই এক রাত... একটু কাছে আসবে... শুধু আমার হয়ে থাকো।"
পিহূর চোখে জল চলে আসে।
"তুমি জানো, ভালোবাসা ছিনিয়ে নেওয়া যায় না। রাকেশ যদি আজ পাশে থাকতো, তাহলে আমার জীবনে এসব হতো না।"
মাহির শান্ত গলায় বলল,
"তুমি জানো না, রাকেশ কোথায় আছে, কেমন আছে… কিন্তু আমি জানি।"
পিহূ থমকে গেল,
"তুমি কি বলতে চাও... তুমি জানো রাকেশ কোথায়?"
মাহির মুখ ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকাল, তারপর ধীরে বলল,
"সে বেঁচে আছে, কিন্তু তুমি যা ভাবছো—সবটা সত্যি নয়। রাকেশ ছিল আমার বন্ধু, কিন্তু তোমার ভালোবাসার গল্পের আরেকটা সত্য আমি জানি, যা তুমি জানো না…"
পিহূ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকল মাহির চোখে।
চলবে...
---
