-"বা'সর রাতে বরের জায়গায় ক্লাস টিচার মুনফাসিল আবদ্ধ কে দেখে সে'ন্সলেস হয়ে যায় স্রোত।যদিও তাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হয়েছে। তবুও স্রোত ইচ্ছে করেই  বিয়ের আগে বরের মুখ দেখে নি।তার মা শারমিন ভুঁইয়া বারবার বলেছিলো ছেলের ছবি দেখতে‌। কিন্তু স্রোতের ইচ্ছা ছিলো একেবারে বাসর রাতে বরের মুখ দর্শন করবে। ব্যাপারটা বেশ সিনেমাটিক হবে।কিন্তু কে জানতো বাসর ঘরে তার জন্য এমন হাই ভোল্টেজের ঝটকা অপেক্ষা করছে। মিনিট কয়েক পূর্বে ও বরের মুখ দর্শনে জন্য এক্সাইটেড হয়ে ছিলো স্রোত।ফুলে ফুলে স'জ্জি'ত বি'ছানায় আপাদম'স্তক  ঘোমটা টেনে বসে ছিলো। চারিদিকে ফুলের মিষ্টি গ'ন্ধে মৌ মৌ করছে।সেই সাথে উঠানামা করছে স্রোতের বক্ষঃস্থল। অজানা, ভয় , সংকোচ ঘিরে ধরেছে স্রোত কে।স্রোত সন্তর্প'ণে মাথা থেকে ঘোমটা টা সরিয়ে পুরো রুমে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো।রুমটা খুবই পরিপাটি করে সাজানো। আসবাবপত্রে আভিজাত্যের ছোঁয়া লেগে রয়েছে। রুম দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই রুমের মালিক ও অনেক পরিপাটি। রুম দর্শন  শেষে স্রোতের দৃষ্টি যায় শুভ্র রাঙ্গা বিছানার দিকে।সাদা বিছানার মধ্য  খানে লাল গোলাপের পাপড়ি দ্বারা লাভ অঙ্কন করে লাভের মধ্যে আবার  ইংরেজি অক্ষরে A + S লিখে রাখা হয়েছে।স্রোত একবার নিজের হ'স্তে  ফুলগুলো কে ছুঁয়ে দিলো। এই ফুলে ফুলে স'জ্জি'ত বি'ছানায় সে এক অপরিচিত পু'রুষের পাশে শয়ন করবে ভাবতেই তার মধ্যে  এক রাশ ল*জ্জা এসে ভর করলো ।মন প্রাণ অন্যরকম অনুভূতি তে ছেয়ে গেলো।ক্ষণে ক্ষণে কম্পিত হলো সর্বাঙ্গ।এর‌ই মধ্যে খট করে দ্বার খোলার আওয়াজ কর্ণকুহরে প্রবেশ করলো নববধূর। তৎক্ষণাৎ ক'লি'জা ছ্যাত করে উঠলো তার।দু হস্তে খা'মচে ধরলো বি'ছা'নার চাদর।তার বু'কের মধ্যে যেন কালবৈশাখীর তা'ন্ডব শুরু হয়ে গেলো।স্রোত শ্বা'সকষ্টের রোগীর মতো জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে শুরু করলো। কয়েক সেকেন্ড পর স্রোত নিজেকে সামলে নিয়ে বি'ছা'না ছেড়ে নেমে সামনের দিকে অগ্রসর হতেই স্রোতের মাথায় যেন আকাশ ভে'ঙ্গে পড়লো। স্রোতের সামনে স্বয়ং তার দুশমন  মুনফাসিল আবদ্ধ বিয়ের শেরোয়ানি মাথায় পাগড়ি পরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এমতাবস্থায় নিজের কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে হয় স্রোতের। সে যদি জানতো আবদ্ধের স্যারের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে।সে কখনোই এই বিয়ে করতো না।সে তো আবদ্ধের সাথে কম ঝা'মেলা করে নি। পুরোনো সেসব অপকর্মের কথা মনে পড়তেই স্রোতের হাত , পা বিরামহীন ভাবে কম্পিত হতে  থাকে।পদযুগল ক্রমশ অবশ হয়ে আসে। দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে যায় স্রোতের।স্রোত নিজের ব্যালেন্স রাখতে না পেরে সে'ন্সলেস হয়ে নিচে পড়ে যায়।”


******


আবদ্ধ সবে মাত্র দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছে।ঠিক তখনি স্রোতের নয়নে তার নয়ন মিলিত হয়ে যায়।যে নয়নে ছিলো বিষ্ময় , সংশয়। আবদ্ধ কিছু বুঝে উঠার আগেই স্রোত সেন্সলেস হয়ে নিচে পড়ে যায়।আবদ্ধ তৎক্ষণাৎ নিজের মাথার পা'গড়ি খু'লে বিছানায় ছু'ড়ে ফে'লে দিয়ে স্রোত কে পাঁ'জা কোলে তুলে নিয়ে বিছানার শুইয়ে দিয়ে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিলো। কয়েক সেকেন্ড পর পর স্রোতের জ্ঞা'ন ফিরে আসে।স্রোত পিটপিট করে আবদ্ধের দিকে তাকালো।চোখে মুখে এখনো চরম বি'ষ্ম'য় রয়েছে স্রোতের। স্রোত কে বিড়াল চোখে তাকাতে দেখে আবদ্ধ বললো,


-” বা*সর ঘরে ঢুকে ব‌উকে ছুঁয়ে দেখার আগেই ব‌উ সে'ন্সলেস হয়ে গেলো ? হাউ স্ট্রে'ঞ্জ?”


-”  আবদ্ধের মুখে ব‌উ ডাক ভেতর নাড়িয়ে দিলো স্রোতের ।শিরায় শিরায় শিরায় নাম না জানা শিহরণ বয়ে যায়।স্রোত তৎক্ষণাৎ বি'ছানা ছে'ড়ে উঠে দাঁড়ালো। তার ভয়ের পাশাপাশি ল*জ্জা ও বাড়তে  শুরু করলো। এক পর্যায়ে স্রোত ভয়ে ল*জ্জায়  চোখের পানি ছেড়ে দিলো।যা দেখে আবদ্ধ বললো,


-” ওহ্ শীট ! আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার ব‌উ প্রে*গন্যা*ন্ট। প্রে*গন্যা*ন্সির সময় মেয়েরা এমন একটু আধটু সে'ন্সলে'ন্স হয়।ইজ‌ ডাজেন্ট ম্যাটার। আচ্ছা ব‌উ ক'টা বাচ্চা হবে আমাদের ? ছোটবেলায় নানু বলতো জমজ কলা খেলে নাকি জমজ বাচ্চা হয়।আমি তো ছোটবেলায় ত্রিপল কলা খেয়েছি।তাহলে কি আমাদের তিন টা বাবু হবে ? বাবুরা কার মতো দেখতে হবে? তার মাম্মাম এর মতো ? নাকি পাপার মতো?বাই দ্যা ওয়ে ডে'লিভা'রি কবে হবে?”


-” আবদ্ধের এমন বিব্রতকর ,লাগামহীন কথাবার্তা হ'জ'ম করতে পারলো না স্রোত। তার কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বেরোনো উপক্রম হয়ে গেলো।তার ভীত, শঙ্কিত হয়ে থাকা মুখশ্রী মূহুর্তের জন্য যেন লাজে রাঙা হয়ে উঠলো।স্রোত অশ্রুসিক্ত নয়নে আবদ্ধের দিকে তাকিয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললো,


-” এ এসব কি বলছেন স্যার ? আপনি ঠিক আছেন তো? নাকি মেয়াদোত্তীর্ণ গাঁ*জা খেয়েছেন? কেমন উল্টো পাল্টা কথা বলছেন।”


-” ভুল কিছু বলেছি কি ? “


-” আবদ্ধের প্রশ্নের উত্তর জানা নেই স্রোতের। স্রোত কি করবে বুঝতে না পেরে পুনরায় সে'ন্সলে'স হবার নাটক করে ঠাস করে নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই আবদ্ধ স্রোতের কোমর আঁকড়ে ধরলো।তার পুরুষালী শক্তপোক্ত হাত গিয়ে স্পর্শ করলো স্রোতের উন্মুক্ত নরম , কোমল মেদহীন পে'টে। মূহুর্তের মধ্যে যেন স্রোত জমে বরফ হয়ে গেলো। শরীরে শিরশিরে অনুভূতি জাগ্ৰত হয়ে লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেল। ক্রমাগত হৃদস্পন্দন বাড়তে শুরু করলো।স্রোত জিভ দ্বারা নিজের ওষ্ট ভিজিয়ে নিলো কয়েকবার। আবদ্ধের  শক্তপোক্ত হাতের বাঁধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ছটফট করতে শুরু করলো। স্রোতের ছটফটানি দেখে আবদ্ধ আরো শক্ত করে স্রোতের কোমর চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে এসে স্রোতের কানের কাছে নিজের ওষ্ট নিয়ে ফিসফিস করে বললো,


-” এতো ছ'টফ'ট করছো কেন ব‌উ? এমন ভাবে ছ'টফ'ট করছো যেন আমি এই প্রথম বার তোমার কাছে এ'সে'ছি। অথচ দেখো তুমি আমার বা'চ্চার মা হতে চলেছো।তাহলে তুমিই বলো আমি তোমার কা'ছে না আসলে , তোমাকে ভালো না বাসলে তুমি তো আর এমনি এমনি আমার বা'চ্চার মা হয়ে যাও নি ?আমার  স্প'র্শ গ'ভীর থেকে গ'ভীরে পৌঁছেছে তোমার।ঠিক যেন অতলস্পর্শী ।তাহলে এখন এতো ছ'টফটা'নি কেন?”


চলবে,,,,,,, 


তোমাকেই চাই

পর্ব  (০১)

।।।।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org
How To Get It For Free?

If you want to get this Premium Blogger Template for free, simply click on below links. All our resources are free for skill development, we don't sell anything. Thanks in advance for being with us.